কাতারএনার্জি ২ মার্চ ফোর্স মেজর ঘোষণা করে। এর পর ৫ মার্চ একই ঘোষণা দেয় ওমানভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড। পরে এই স্থগিতাদেশ কাতারএনার্জির ক্ষেত্রে ৮ মে এবং ওকিউ ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে ১০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এপ্রিলের জন্য এলএনজি কার্গো নিশ্চিত
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ঘাটতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিকল্প সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এপ্রিলের জন্য আমরা নয়টি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করেছি। এর মধ্যে আটটি স্পট মার্কেট থেকে কেনা হচ্ছে। একটি আসবে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারীর কাছ থেকে, যা সম্ভবত অ্যাঙ্গোলা থেকে সংগ্রহ করা হবে।”
দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ এখন উচ্চমূল্যের স্পট মার্কেটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এতে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে—যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ভর্তুকির চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মিজানুর রহমান বলেন, ইরানের আশ্বাসের পর তালিকাভুক্ত কার্গোগুলো যদি আসলেই পাওয়া যেত, তাহলে বাংলাদেশকে এত বেশি স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হতো না।
তবে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংকটে পড়ে চলমান জ্বালানি কেনার ব্যাপারটি এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ইস্যু করেছি এবং চুক্তিসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন এসব স্পট চুক্তি বাতিল করার আর কোনো সুযোগ নেই।”
রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় চাইল বাংলাদেশ
এদিকে, জ্বালানি খাতে চাপ কমাতে রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
গতকাল এক বার্তায় জানানো হয়, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে জ্বালানি দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুরোধ করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ কৃষি মৌসুমের আগে কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে সীমিত বৈশ্বিক ছাড় আগে দিয়েছিল, বাংলাদেশ তখন তার সুবিধা নিতে পারেনি। কারণ সে সময় কোনো ট্যাংকারই বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেনি।
বুধবার সরকার প্রতিযোগিতামূলক দরে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি ব্যারেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৬ দশমিক ৪১ ডলার।
এক্সনমোবিল কাজাখস্তান ইনকের কাছ থেকে এ আমদানির অনুমোদন এসেছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত কূটনৈতিক অগ্রগতিও নিশ্চিত করছে বাংলাদেশ।
এর আগে ১১ মার্চ সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের কাছে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল আমদানিতে সাময়িক ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, কাজাখস্তান থেকে বাংলাদেশের তেল কেনার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
তিনি বলেন, এখন ওয়াশিংটন 'কেস-বাই-কেস' ভিত্তিতে মতামত দিচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ না করেই রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে—এমন নির্দিষ্ট কিছু সরবরাহকারী ও বন্দর থেকেও বাংলাদেশ আমদানি করতে পারছে।