শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের ধান উৎপাদনে হাওর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও আকস্মিক বৃষ্টি ও বন্যার কারণে প্রতিবছর ফসলের ক্ষতি হয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে পাকে এমন ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। এতে আগাম ফসল কাটা সম্ভব হলে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।
মন্ত্রী আরও জানান, পানিতে ডুবে থাকা ধান কাটতে সক্ষম আধুনিক হারভেস্টিং মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।
ইলিশ সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে জাটকা নিধন রোধে জেলেদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। দাদন নির্ভরতা কমিয়ে জেলেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের লক্ষ্য শুধু দেশীয় চাহিদা পূরণ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি ইলিশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। এজন্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
কৃষিপণ্যের অপচয় কমাতে সারাদেশে ইউনিয়নভিত্তিক মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এতে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় কমবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে।
এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সমন্বিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।