২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা এই মামলা করে, অভিযোগ ছিল যে, ইসরায়েল ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। এরপর থেকে এক ডজনেরও বেশি দেশ মামলায় অংশ নেওয়ার আবেদন করেছে।
শুক্রবার আইসিজে জানিয়েছে, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি ও ফিজি ১২ মার্চ মামলায় হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এর একদিন আগে আইসল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড একই ধরনের ঘোষণা দেয়। এই হস্তক্ষেপ আইসিজের আর্টিকেল ৬৩ অনুযায়ী করা হয়েছে, যা গণহত্যা সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে বিরোধ দেখা দিলে চুক্তির নিজস্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপনের সুযোগ দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার দাবি, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড—যেমন ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধ্বংসযজ্ঞ এবং ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকার পরিস্থিতি হুমকির মধ্যে ফেলা—এসবই গণহত্যার শামিল। ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান আত্মরক্ষার বৈধ পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র, হাঙ্গেরি ও ফিজি ইসরায়েলের অবস্থানকে সমর্থন করে আইনি যুক্তি জমা দিয়েছে। তাদের মতে, গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের মানদণ্ড কমিয়ে দিলে আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হতে পারে। ওয়াশিংটন এই মামলাকে আইনি দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে আইসিজেকে আবেদন খারিজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে নামিবিয়া, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসসহ আরও এক ডজনের বেশি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়ে গণহত্যা সনদের বিস্তৃত ব্যাখ্যা চেয়েছে। তাদের মতে, এতে ইসরায়েলের সামগ্রিক আচরণ, গাজার পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের বৃহত্তর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
গাজা যুদ্ধের সূচনা হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়। এতে প্রায় ১,২০০ জন নিহত ও ২৫০-এর বেশি জিম্মি হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় অবরোধ, বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও এরপর থেকে ৬৫০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ১,৭৪০-এর বেশি আহত হয়েছে। ইসরায়েল ও হামাস একে অপরকে নিয়মিত চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
সূত্র: আরটি