বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় রহমান অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি তেল দিচ্ছে না। সোমবার রাত থেকেই তারা পাম্পের সামনে অবস্থান নেন। পরে কোনো সমাধান না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
এদিকে সরকার অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৩,১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে ২ লাখ ৮,৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ডিজেল সবচেয়ে বেশি—১,৩৯,৯৬৫ লিটার। এছাড়া ২২,৫৩৯ লিটার অকটেন ও ৪৬,১৪৬ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে।
অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে ১,০৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং মোট ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযান চলমান থাকবে এবং জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও দেশীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। নিয়মিত মাসিক মূল্য সমন্বয় নীতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নতুন দাম ঘোষিত হবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এতে আমদানি ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি খাতে স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় নীতি কাঠামো নিশ্চিত হবে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস চালুর বিষয়টি আবারও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে, যেন জ্বালানি সাশ্রয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব কম হয়।