শনিবার (৯ মে) সরেজমিনে উপজেলার দৌলতপুর ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গড়পিংলাই, বারাইপাড়া, গণিপুর, আড়াপাড়া, ঘোনাপাড়া, পলিপাড়া, লক্ষ্মীপুর, মহেশপুর ও মহদীপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এখনো প্রায় ৫০০ বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে রয়েছে।
অনেক কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। এতে একদিকে যেমন শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে জোঁক ও পানি কামড়ার ভোগান্তিও বেড়েছে। কৃষকেরা বলছেন, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হওয়ায় শ্রমিকরা অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছেন।
খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মহদীপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই তাঁদের পাকা ধান ডুবে গেছে। বর্তমানে এক বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিকরা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন। অথচ স্বাভাবিক সময়ে একই কাজ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় করা যেত।
দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম, মান্নান ও মইদুল ইসলাম বলেন, বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতার কারণে জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। অনেক কষ্টে ইরি ধান আবাদ করলেও কাটার আগমুহূর্তে বৃষ্টিতে সব পানির নিচে চলে গেছে। ভেজা ধান ঘরে তুলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা, যেখানে শুকনা ভালো ধানের বাজারদর ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও খাল–ক্যানেলের ত্রুটির কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, ২০২০ সালে জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বারাইপাড়া এলাকায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬ মিটার ক্যানেল নির্মাণ করা হয়। তবে ক্যানেলটি আবাদি জমির চেয়ে উঁচু হওয়ায় পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও বাঁধ দেওয়ার কারণেও পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কিছু এলাকায় অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণেও পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অল্প পানিতে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করা গেলেও অধিক পানিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, ক্যানেল নির্মাণে কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়েছে, যা ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।