আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ফুল প্লে-এর যৌথ মালিক হুগো জিনকিস ও তার ছেলে মারিয়ানো আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে লাভজনক সম্প্রচার ও বিপণন স্বত্ব পাওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ৮১ বছর বয়সী হুগো ও ৫১ বছর বয়সী মারিয়ানো ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তারা কয়েক কোটি ডলার বাণিজ্যিক ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
বিনিময়ে উচ্চপর্যায়ের ফুটবল কর্মকর্তারা ফুল প্লেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণন স্বত্ব পেতে সহায়তা করেন। এর মধ্যে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ এবং কোপা আমেরিকার মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার স্বত্বও ছিল।
অর্থাৎ, ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও লাভজনক আয়োজনগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার নিশ্চিত করতে ঘুষের একটি বড় নেটওয়ার্ক কাজ করেছিল—এমন অভিযোগেরই দায় স্বীকার করেছেন বাবা-ছেলে।
ব্রুকলিনের একটি আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেন হুগো ও মারিয়ানো। যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিদের সঙ্গে করা ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্টের (ডিপিএ) অংশ হিসেবে তারা দোষ স্বীকারে সম্মত হন।
এর ফলে আপাতত তাদের পূর্ণাঙ্গ বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তবে এর বিনিময়ে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
নিজেদের কর্মকাণ্ডের পরিণতি হিসেবে জিনকিস বাবা-ছেলে ৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করতে রাজি হয়েছেন।
চুক্তি অনুযায়ী, তারা নতুন কোনো অপরাধে জড়িত না হলে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আনা তারবার্তা-ভিত্তিক প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছে মার্কিন প্রসিকিউশন।
তবে মূল অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল।