যার ফলে অনেক পরিবার এখন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩০৩ পাউন্ড ৯৪ পেন্স পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যোগ্য পরিবারগুলোকে এই অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা কোনো আবেদন করতে হবে না; সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের মাধ্যমে যোগ হবে।
অনেকেই মনে করছেন, এটি নতুন কোনো সরকারি বোনাস বা এককালীন পেমেন্ট, কিন্তু বাস্তবে এটি ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের নিয়মিত চাইল্ড এলিমেন্ট সুবিধা। অর্থাৎ, পরিবারে থাকা প্রতিটি সন্তানের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে মাসিক সহায়তা দিয়ে থাকে। বর্তমানে সেই পরিমাণ হলো ৩০৩.৯৪ পাউন্ড।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই সহায়তা পাওয়া যায়। আর যদি সন্তান অনুমোদিত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে থাকে, তাহলে ১৯ বছর বয়স পর্যন্তও পরিবারগুলো এই অর্থ পেতে পারে। ফলে যেসব পরিবারে একাধিক সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য এই সহায়তা বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
নতুন করে এই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে কারণ সরকার অবশেষে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের বহুল সমালোচিত 'টু-চাইল্ড লিমিট' বা দুই সন্তানের সীমা বাতিল করেছে। এই নিয়মটি ২০১৭ সালে চালু করা হয়েছিল। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পরিবারগুলো শুধুমাত্র প্রথম দুই সন্তানের জন্য চাইল্ড এলিমেন্ট পাবে। অর্থাৎ, ২০১৭ সালের এপ্রিলের পর জন্ম নেওয়া তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের জন্য কোনো অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হবে না।
এই নীতির কারণে বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক চাপে ছিল। বিশেষ করে বড় পরিবারগুলো বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খেত। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং দারিদ্র্যবিরোধী ক্যাম্পেইনাররা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশেষে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন পরিবারে যত সন্তানই থাকুক না কেন, প্রত্যেক সন্তানের জন্য ৩০৩.৯৪ পাউন্ড করে সহায়তা পাওয়া যাবে।
ফলে তিন, চার বা তার বেশি সন্তানের পরিবারগুলো প্রতি মাসে কয়েকশো পাউন্ড অতিরিক্ত পেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আগে তিন সন্তানের পরিবার শুধুমাত্র দুই সন্তানের জন্য ভাতা পেত, কিন্তু এখন তারা তৃতীয় সন্তানের জন্যও অতিরিক্ত ৩০৩.৯৪ পাউন্ড পাবে। একইভাবে চার বা পাঁচ সন্তানের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও মাসিক সহায়তার পরিমাণ আরও বেশি বাড়বে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই অর্থ অনেকের ইউনিভার্সাল ক্রেডিট অ্যাকাউন্টে মে অথবা জুন মাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হতে শুরু করবে। এটি নির্ভর করবে প্রত্যেক পরিবারের অ্যাসেসমেন্ট পিরিয়ডের ওপর। তাই যদি কেউ কখনো বাড়তি অর্থ না পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদেরকে কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার পরিবার আগে টু-চাইল্ড লিমিট নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এসব পরিবারে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ লাখ শিশু বসবাস করে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন এই পরিবারগুলো অতিরিক্ত সহায়তার আওতায় আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়া, জ্বালানি বিল ও খাদ্যের দাম বাড়ার এই সময়ে বাড়তি সহায়তা বহু পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।