শুক্রবার প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, অবকাঠামোগত সুবিধা ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
বর্তমানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অধীন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ—যেমন রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম—সম্পন্ন করতে রাজধানী ঢাকা-তে যেতে হয়। এতে—সময়ের অপচয়, অতিরিক্ত অর্থব্যয়, যাতায়াতে ভোগান্তি—সব মিলিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রস্তাবিত আঞ্চলিক কেন্দ্র চালু হলে স্থানীয় পর্যায়েই এসব প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে—শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াত কমবে, সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে, সেবা প্রাপ্তি সহজ ও দ্রুত হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। শিক্ষার নতুন দিগন্ত প্রস্তাবিত কেন্দ্রটিতে একটি আধুনিক টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এখানে—শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতির চর্চা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মহাস্থানের মতো ঐতিহাসিক এলাকায় একটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপিত হলে—
স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, শিক্ষা ও পর্যটনের সমন্বয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পরিদর্শন শেষে মীর শাহে আলম বলেন, “এই আঞ্চলিক কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসবে।”
মহাস্থানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ ও আধুনিকায়নের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এখন নজর—এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।