রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল করিমের ছেলে। স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে এসেছে, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আচমকা আকাশ কালো হয়ে আসে। শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির পাশের জমিতে ঘাস খেতে থাকা নিজের ছাগলটি আনতে বের হন সুমন।
জমিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে বিপর্যয়। প্রচণ্ড বজ্রপাত সরাসরি তার ওপর আঘাত হানে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার আগেই নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ।
স্থানীয়দের মতে, সুমন ছিলেন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গ্রামের পরিবেশও হয়ে উঠেছে ভারী ও স্তব্ধ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গাবতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু মুসা। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল বাংলাদেশে বজ্রপাত এখন এক নীরব ঘাতক হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাইরে অবস্থান করলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সচেতনতা ও সতর্কতা ছাড়া এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন।
একটি ছাগল আনতে গিয়ে কেন হারাতে হবে একটি প্রাণ? হয়তো একটু অপেক্ষা, একটু সতর্কতা বাঁচিয়ে দিতে পারত একটি পরিবারকে আজকের এই শোক থেকে।