সম্প্রতি বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তবে তাঁদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় গ্রেপ্তার এবং কিছু আলোচিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশের চ্যালেঞ্জ
ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশের অভিযোগ, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে বেসরকারি খাত এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
বর্তমান সরকার নতুন বাজেটে শিল্প খাতের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসা পরিবেশ।
কিছু ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তি, ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক বাধা দূর করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসনে পরিবর্তনের প্রশ্ন
সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এখনো আগের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রভাব রয়েছে বলে বিএনপির ভেতরের কিছু নেতার অভিযোগ। তাঁদের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
অন্যদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে।
প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর সরকারকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। বৈষম্যহীন সমাজ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
তাঁদের ভাষ্য, সরকারের প্রাথমিক সময় শেষ হয়েছে। এখন নীতিগত ঘোষণা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি দৃশ্যমান বাস্তবায়নের দিকে জনগণের নজর বেশি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা গেলে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। অন্যথায় জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।