দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহমান (৫০) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, খয়েরহুদা গ্রামের সংলগ্ন মাঠে প্রায় দুই মাস আগে অস্থায়ী কারখানা গড়ে তোলেন আব্দুর রহমান। সেখানে ট্রাক, বাস ও আইপিএসসহ বিভিন্ন যানবাহনের পুরোনো ব্যাটারি মজুদ করে সেগুলো পুড়িয়ে সিসা ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল।
অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬(গ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাকে জরিমানা করা হয়। এ সময় কারখানার কাঁচামাল, পুরোনো ব্যাটারি ও যন্ত্রপাতি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম চালালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পরিদর্শক মো. নাইম হোসেন, হিসাবরক্ষক লক্ষিকান্ত কুমারসহ জীবননগর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খয়েরহুদা গ্রামের বয়ারগাড়ি মাঠে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ওই কারখানায় প্রতিদিন রাতে পুরোনো ব্যাটারি গলানো হতো। এতে সিসা ও এসিড থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ তৈরি করছিল। এতে সন্তোসপুর, ধোপাখালী, একতারপুর, উথলী, সেনেরহুদা, মৃগমারী ও দেহাটিসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
তাদের ভাষ্য, রাত ১০টার পর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় শুরুতে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা শুরু হয়।
চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং পরিবেশ, ফসল ও প্রাণিকুলের জন্যও ক্ষতিকর।
এ ঘটনায় অভিযানের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, সাময়িকভাবে বন্ধ না রেখে স্থায়ীভাবে এ ধরনের অবৈধ কারখানা বন্ধ করা প্রয়োজন।