প্রতি বছর এই মৌসুমে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান ভ্রমণের ধুম পড়লেও এবার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আকাশপথ এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে। মহামারির পরবর্তী সময়ে বিদেশের মাটিতে আটকা পড়ার এমন গুরুতর ঝুঁকি এর আগে আর দেখা যায়নি। তাই যাত্রার আগে বিমা এবং পেশাগত দায়বদ্ধতা পুনরায় যাচাইয়ের জন্য নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট পয়েন্টগুলো। যুক্তরাজ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় আসার জন্য এই রুটগুলোই প্রধান মাধ্যম। মার্চের শেষ নাগাদ হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে ভ্রমণের সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আকস্মিক আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কেউ যদি আটকা পড়েন, তবে ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শ হলো— যতক্ষণ না বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হচ্ছে, ততক্ষণ নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা। স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে যারা ভ্রমণে আসছেন, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। যুক্তরাজ্য সরকারের শিক্ষা বিভাগ সাধারণত বিদেশের যুদ্ধ বা অস্থিরতাকে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ হিসেবে গণ্য করে না। ফলে সময়মতো ক্লাসে ফিরতে না পারলে অভিভাবকদের বড় অংকের জরিমানা গুণতে হতে পারে।যারা যুক্তরাজ্যে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট সুবিধা পান, তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ভ্রমণ সংকট ডেকে আনতে পারে আর্থিক বিপর্যয়। নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রাপক সর্বোচ্চ এক মাস দেশের বাইরে থাকতে পারেন, যদি তিনি কাজের জন্য প্রস্তুত থাকেন। যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যদি এই সময়সীমা পার হয়ে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বেনিফিট বা সরকারি ভাতা স্থগিত বা বাতিল হয়ে যেতে পারে। একইভাবে বিদেশের মাটিতে আটকা পড়া কর্মীদের সুরক্ষায় যুক্তরাজ্যের শ্রম আইন খুব একটা কার্যকর নয়। কোনও কর্মী আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে মালিক তাকে বেতন দিতে বাধ্য নন। এমনকি অনুপস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ‘চুক্তি ভঙ্গের’ অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা চাকরি হারানোর ঝুঁকিও থেকে যায়।
পণ্য পরিবহন ও আকাশপথের ভবিষ্যৎবিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বর্তমান সংঘাত চলতে থাকলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পাশাপাশি কার্গো বা পণ্যবাহী বিমান চলাচলেও কঠোর বিধিনিষেধ আসতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এড়াতে বিমানগুলোকে ঘুরপথে চলতে হচ্ছে, যাতে জ্বালানি খরচ বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি নাগাদ বিমান ভাড়া ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এবং সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলে সমুদ্রপথই হবে একমাত্র ভরসা। এফসিডিও জানিয়েছে, সরকারি উদ্যোগে উদ্ধারকারী ফ্লাইট কেবল শেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি সাধারণত বিনামূল্যে হয় না। তাই প্রত্যেক যাত্রীর উচিত পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি রাখা এবং ‘ওয়ার-রিস্ক’ বা যুদ্ধকালীন ঝুঁকি কভার করে এমন বিমা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে লন্ডনের বিশিষ্ট আইনজীবি ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দীন সুমন এ প্রতিবেদককে বলেন, যাত্রীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা– ব্রিটিশ নাগরিকদের এফসিডিও’র অফিশিয়াল পোর্টালে নিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; যাতে তারা সরাসরি ফোনে এসএমএস অ্যালার্ট পেতে পারেন। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে গন্তব্যস্থলটি, বিশেষ করে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম কিংবা ভারতের কাশ্মীর সীমান্ত এলাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে কি না। সরকারি সতর্কতা উপেক্ষা করে ভ্রমণ করলে সাধারণ ট্রানজিট বিমা অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির সব খরচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।