ব্রাজিলের বিদায় ও আর না খেলার ঘোষণার একদিন পর ছেলেকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন একটি দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন তার বাবা নেইমার সিনিয়র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ওই বার্তায় নেইমারের ফুটবলজীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা স্মৃতিচারণ করেন তিনি। একই সঙ্গে ছেলেকে ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বার্তার শুরুতেই তিনি লেখেন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের পরিবার খ্রিস্টান ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিয়েছে। অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও সেই বিশ্বাসই তাদের পথ দেখিয়েছে।
ছেলের ক্যারিয়ারের নানা মুহূর্ত স্মরণ করে তিনি লেখেন, প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, পেশাদার ফুটবলে অভিষেক, বড় বড় স্টেডিয়ামে খেলা, শিরোপা জয়, ব্রাজিল জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব এবং বিশ্বজুড়ে পরিচিতি—সবকিছুরই সাক্ষী তিনি। তবে একজন বাবা হিসেবে সন্তানের পাশে থাকতে পারাটাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বার্তার একপর্যায়ে নেইমারকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। আবারও বল পায়ে খেলার আনন্দ খুঁজে নাও, মাঠে হাসিমুখে ফিরে এসো। ঈশ্বর তোমাকে সুস্থ করে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা জীবনের নানা চাপ নিজের কাঁধে বহন করো না। সব সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে থাকে না, কিছু সিদ্ধান্ত শুধুই ঈশ্বরের। একটি স্বপ্ন পূরণ না হলেও তার মানে এই নয় যে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নেইমারের বাবা লেখেন, ‘সামনের দিনগুলোকে ভয় পেয়ো না। আজকে বাঁচো, অনুশীলন করো, খেলো, হাসো, সন্তানদের সময় দাও, পরিবারকে ভালোবাসো। বাকিটা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দাও।’
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ট্রফি, গোল কিংবা খ্যাতির চেয়েও বড় বিষয় হলো ঈশ্বরের আশীর্বাদ। তার বিশ্বাস, নেইমারের জীবনে এখনও অনেক সুন্দর অধ্যায় লেখা বাকি।
নেইমারের বাবার সর্বশেষ যে কথাটি বিশ্বকে আবেগী করে তুলছে তা হলো, ‘মনে রেখো, পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন। আর বাবা হিসেবে আমি সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত—প্রতিটি সফর, প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা এবং প্রতিটি প্রার্থনা।’