প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের আট জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২১ হাজার খামার রয়েছে। এসব খামারে ও বাসাবাড়িতে এবার ২০ লাখ ২৩ হাজার পশু কোরবানির জন্য পালন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১ হাজার বেশি। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পশুর হাটগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জমে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিভাগে পশুর সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দিনাজপুর জেলা। সেখানে ৪ লাখ ২৬ হাজারের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া রংপুর জেলায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার, কুড়িগ্রামে ৩ লাখ ৩৬ হাজার এবং নীলফামারীতে ২ লাখ ৮২ হাজার পশু রয়েছে। তুলনামূলক কম পশু রয়েছে ঠাকুরগাঁও (৯৫ হাজার) ও পঞ্চগড় (১ লাখ ৩০ হাজার) জেলায়। গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটেও চাহিদার তুলনায় পশুর জোগান বেশি।
খামারিদের অভিযোগ, দেশে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। তা সত্ত্বেও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। রংপুর নগরীর শালবন এলাকার খামারি মমতাজ আলী বলেন, "আমার খামারে অর্ধশত গরু বিক্রির জন্য তৈরি। ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকলে এবার ভালো মুনাফার আশা করছি। তবে চোরাচালান রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।"
রংপুর ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসিফুল ইসলাম জানান, ক্ষুদ্র ও বড় সব পর্যায়ের খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি ও পুলিশকে পশুর অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, "গরু চোরাচালান রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গবাদিপশু আসার সুযোগ নেই। আশা করছি, খামারিরা তাদের পশুর সঠিক দাম পাবেন।"
প্রতি বছর ঈদের আগে সীমান্ত জেলাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি ওঠে। এবারও কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও দিনাজপুরের মতো সীমান্ত এলাকাগুলোতে বাড়তি সতর্কতার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।