সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরের দিকে উপজেলার সাঁওতাল পল্লীর মাদারপুর ও জয়পুর থেকে শতশত সাঁওতাল তীর ধনুক বাদ্যযন্ত্রসহ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গাইবান্ধা শহরে এসে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ পরিষদ, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদ ও সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ এই কর্মসূচির আয়োজন করেন। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী বাঙালি পরিষদের সভাপতি আডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের সদর উপজেলা আহ্বায়ক গোলাম রাব্বানী মুসা, সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্রিটিশ সরেন, সাঁওতাল নেত্রী মূরমু, তৃষ্ণা ও অঞ্জলিসহ সাঁওতাল নেতৃবৃন্দ।
আদিবাসী সংহতি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ১২ এপ্রিল গোবিন্দগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের সাঁওতাল বাঙ্গালীদের জমি ফেরত ও টিম সাঁওতাল হত্যার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ মিছিলে অতর্কিত হামলা করা হয় ।
তিনি বলেন ওই এলাকার ভূমিদস্যু মহালয়াইন, আব্দুর রউফ,আতাউর রহমান ও স্বপন শেখের নেতৃ্ত্বে একদল দুর্বৃত্ত লাঠি সোটা ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে ওই মিছিল কারীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ হামলায় নারীসহ ছয় জন সাঁওতাল আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত লুকাস মুরমূ, মামালি হাসদা ও শিউলি মারডিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় । সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ ঘটনায় ওদিন গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয় । কিন্তু থানা পুলিশ মামলাটি এখন পর্যন্ত আমলে নেয়নি। ফলে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে এলাকায় ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে সাঁওতালরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । ওই এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন বক্তারা ।