বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) আইন ২০২৬ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস করা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিদ্যমান আইনে বিএসইসি চেয়ারম্যান বা কমিশনারের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর এবং আইডিআরএ চেয়ারম্যান বা সদস্যের ক্ষেত্রে ৬৭ বছরের বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল। নতুন সংশোধনীতে সেই বয়সসীমা বাতিল করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞ, দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত করতে আইনটি যুগোপযোগী করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১৯৯৩ সালে গড় আয়ু যেখানে ৫৭ বছর ছিল, এখন তা ৭২ বছরে পৌঁছেছে। তাই অভিজ্ঞ
ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিশ্বের অনেক দেশেই বয়স নয়, যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, এই সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবিত নিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তার মতে, সাম্প্রতিক নিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থিক খাতে অতীতে সবসময় অরাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান সরকারও সেই ধারা বজায় রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বয়সসীমা বাতিল কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে কিনা—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে অনিয়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে সংসদে পাস হওয়া এই দুই সংশোধনী বিল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।